এআই হয়রানি রোধে নজরদারি শুরু

২৩ মে, ২০২৪ ২২:৪৭  

উন্নত বিশ্বের মতো আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সকে (এআই) ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। আর এজন্যএআই ব্যবহার করে অপপ্রচার ও হয়রানি বন্ধ করতে এআই প্রযুক্তিকে নজরদারিতে আনতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় গণভবনে ১৪ দল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে ফেসবুকেও সমালোচনা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয় উল্লেখ করে এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সকলের হাতে হাতেই এখন মোবাইল ফোন। ফোরজি চালু হওয়ায় যে যার মতো করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। সেখানে মিথ্যা অপবাদের সঙ্গে ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ব্যবহার করে মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা। সেটাকে নজরদারিতে আনার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। শুধু আমাদের দেশ না আন্তর্জাতিক ভাবে সব উন্নত দেশগুলোই এ ব্যাপারে চিন্তিত। এখন ভাবা হচ্ছে, কীভাবে এটা মোকাবেলা করা যায় এবং এর হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করা যায়। স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেকটি দেশই খুঁজছে কীভাবে এখান থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তা খুঁজছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রেনেড হামলাকারী, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি; ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে রোজই আন্দোলন ও সরকার উৎখাতসহ নানা রকম হুমকি-ধমকি দেয়। যতক্ষণ জনগণ সঙ্গে আছে ওটা আমি কেয়ার করি না।

এদিকে গত মাসে (এপ্রিলে) জাতীয় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নীতিমালা ২০২৪–এর খসড়া প্রকাশ করেছে আইসিটি বিভাগ। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা/দপ্তরের কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে বিটিআরসি মিলনায়তনে। একই সময়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে জানিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এ বিষয়ে আইন না করে উপায় নেই। তবে প্রথম পর্যায়ে এ আইনে যথেষ্ট ফ্লেক্সিবিলিটি (নমনীয়তা)  থাকতে হবে। শুধু যে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা দরকার হবে, সেখানে একটু শক্ত হতে হবে।

তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন ও পলিসির মধ্যে একটি সমন্বয় থাকতে হবে। কারণ পলিসির বাইরে আইন করে লাভ নেই। আবার আইনের বাইরে পলিসি করা অর্থহীন।

সভাপতির বক্তব্যে তখন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবেলা এবং সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্যই এআই অত্যন্ত প্রয়োজন। এআইয়ের ঝুঁকি কতটুকু তার উদাহরণও দেয়া হয় অনুষ্ঠানে।

সবশেষ গত ১৭ মে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস ২০২৪’ উদযাপন উপলক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে নিজের ডিজিটাল টুইনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) মানুষের জীবনধারাকে যেমন সহজ করবে ঠিক তেমনি এটি সভ্যতার জন্য একটি বড় ঝুঁকি। প্রযুক্তির এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশেষ করে এআই এর বিরূপ প্রভাব সামলাতে সরকার আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

অপরদিকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি  এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ভবনে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক সভায় এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের সাথে এআই সার্টসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।  এআই সার্টস যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত প্রত্যয়িত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ব্লক চেইন জ্ঞানের সঙ্গে ভবিষ্যতের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।